মুহাম্মদ আজাদ হোসাইন

You are currently viewing মুহাম্মদ আজাদ হোসাইন

জন্ম ও পারিবারিক পরিচিতি:

মুহাম্মন আজাদ হোসাইন জন্মেছিলেন ১৯৯২ সালের ১৪ জানুয়ারী বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত সুফিবাদী পরিবারে। পিতা মুহাম্মদ আবুল বশর, মাতা মৃত রাহেলা বেগম। জনক-জননীর অত্যন্ত আদরের ও পরিবারের ১ম সন্তান তিনি। তাঁর দাদা শাহসূফী আনছারুল হক দরবেশ (রহ.) ছিলেন বোয়ালখালী উপজেলার সর্বজন শ্রদ্ধেয় একজন পরহেজগার ও বুজুর্গ ব্যাক্তি। তাঁর দাদা ও বাবার একান্ত প্রচেষ্টায় গ্রামে দুইটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়। তিনি ও তাঁর দাদা-দাদি, পিতা-মাতা সহ পরিবারের অধিকাংশই আউলাদে রাসূল হাফেজ ক্বারী আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রহ.) ও আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ (মা.জি.আ.)’র একনিষ্ট মুরিদ। সেই হিসেবে সুফিবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছোটবেলা হতে ধর্মীয় অনুরাগ নিয়ে বেড়ে উঠেন।

শিক্ষাজীবন:

মায়ের হাতেই গ্রামীণ পরিবেশে শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি হলেও দেশসেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী হিসেবে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন তিনি।
ছোটবেলা থেকেই তিনি অত্যন্ত চঞ্চল প্রকৃতির ছিলেন পড়াশোনার পাশাপাশি ঘুরেবেড়ানো ও খেলাধুলায় তাঁর মনোযোগ ছিলো বেশী।
তাঁর শিক্ষাজীবনের সূচনা হয় জ্যৈষ্ঠপুরা হামেদিয়া সিনিয়র মাদ্রাসায়, তিনি হামেদিয়া মাদ্রাসায় প্রতিটি শ্রেণীতে ১ম স্থান অধিকার ও ৩য় শ্রেণীতে গড়ে সর্বোচ্চ ৯৬ নাম্বার পেয়ে মাদ্রাসার শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীর পুরস্কার লাভ করেন এবং খুব অল্পসময়েই শিক্ষক ও এলাকার মানুষের কাছে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন।
পরে তাঁর পরিবার উন্নত জীবনযাপনের জন্য চট্টগ্রাম শহরে চলে আসলে তিনি আশেকানে আউলিয়া কামিল মাদ্রাসায় হেফজ বিভাগে ভর্তি হন এরপর ছাত্রসেনার প্রতিষ্ঠাকালিন সদস্য আল্লামা জাফর আহমদ সিদ্দিকী (রহ.) এর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বুড়িশ্চর জিয়াউল উলুম কামিল মাদ্রাসায় ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ১ম স্থান অধিকার করে ৪র্থ শ্রেণীতে ভর্তি হন এ মাদ্রাসাতেই তাঁর সাংগঠনিক হাতেখড়ি।
যখন তিনি ৫ম শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ৬ষ্ট শ্রেণীতে ভর্তি হবেন এমন সময় তার পিতা প্রবাস জীবন শেষ করে দেশে চলে আসেন। শুরু হলো জীবনের নতুন এক অধ্যায় শহরে পড়াশোনার খরচ বেশী হওয়ায় ভর্তি হন বোয়ালখালীর সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চরন্দ্বীপ রজভীয়া ফাযিল মাদ্রাসায় সেখানে ৬ষ্ট, ৭ম, ৮ম শ্রেণী শেষ করে চলে যান বেতাগী রহমানিয়া জামেউল উলুম দাখিল মাদ্রাসায়। সেখান থেকে দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৮১ পেয়ে উত্তীর্ণ হন এবং পোমরা জামেউল উলুম ফাযিল মাদ্রাসা হতে কৃতিত্বের সাথে আলিম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

 

উচ্চশিক্ষা:

তিনি পোমরা জামেউল উলুম ফাযিল মাদ্রাসা হতে কৃতিত্বের সাথে ফাযিল সম্পন্ন করে এশিয়া উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া থেকে হাদীস শাস্ত্রে কামিল সম্পন্ন করেন।
পাশাপাশি সরকারি হাজ্বী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ থেকে বিএ অনার্স ও চট্টগ্রাম কলেজ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। এছাড়াও তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও মাস্টার্স (ইভিনিং) সম্পন্ন করেন।

 

সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন:

প্রতি বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করতেন। হামদ-নাত, কবিতা আবৃতি, উপস্থিত বক্তৃতা, খেলাধুলায় অবস্থানের জন্য তাঁর ৫/৬ টি পুরস্কার যেন বরাদ্দ থাকত সর্বদা। এছাড়াও উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে তিনি বেশ কয়েকবার পুরস্কার লাভ করেন। সাহিত্যের প্রতি তাঁর ঝোঁক থাকায় তিনি বিভিন্ন বিষয়ে প্রবন্ধ, হামদ-নাত, গজল ও কবিতা রচনা করেন, যার মধ্যে সূরা ইউসুফ, সুরা ফাতেহা সহ পবিত্র কুরআনের বেশ কিছু সূরার কাব্যানুবাদ, কামলীওয়ালা, মাহে রমজান, নূর মদিনা, খুকি ও বিড়াল ছানা, মা, নারী, ইমাম, মুয়াজ্জিন, লও হাতিয়ার, ছাত্রসেনা আমার প্রাণ, চল্ জিহাদে বেশ উল্লেখযোগ্য।
মইনীয়া ইসলামী সাংস্কৃতিক ফোরামের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকাকালিন তাঁর নেতৃত্বে দেশ-বিদেশের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে দেশব্যাপী একাধিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা ও ক্যালিগ্রাফি প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়, এছাড়াও তিনি বহুল পঠিত ছাত্রদের প্রিয় ম্যাগাজিন মাসিক ছাত্রবার্তার সহযোগী সম্পাদক ও অন্তর্বর্তীকালীন সম্পাদক হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন।

সাংগঠনিক জীবন:

তিনি ২০০২/২০০৩ সালের দিকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার সাথে পরিচিত হন। তবে সখ্যতা জন্মে ২০০৬ এর দিকে। গ্রামে ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক, সভাপতি ও ইউনিয়নের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক, অর্থ সম্পাদক, সহ সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে বোয়ালখালীতে আলোচনায় আসেন। পাশাপাশি সরকারি হাজ্বী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ শাখায় সদস্য, দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বের পাশাপাশি চট্টগ্রাম মহানগর উত্তরেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও পোমরা জামেউল উলুম ফাযিল মাদ্রাসার ছাত্রসংসদে এজিএস ও ভিপি ও উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন । এরপর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া সুবাদে ঢাকায় চলে আসলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন পাশাপাশি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসেনার আহবায়ক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করে ২০২০ সালে কেন্দ্রীয় সদস্য নির্বাচিত হন।
অত:পর কেন্দ্রীয় কমিটিতে ২০২০ সাল থেকে ধারাবাহিক ভাবে সদস্য, সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ২০২৩-২৪ সেশনে সফলতার সাথে সাধারণ সম্পাদক ও গত ২০২৪-২৫ সেশনে সিনিয়র সহ-সভপতির দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার সহগামী সম্মেলন-২৫ এ ডেলিকেটদের উপস্থিতিতে বিপুল ভোটে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন।
এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, যেমন খাজা গরীবে নেওয়াজ (রহ.) স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক, গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও সেনানী ব্লাড ডোনার্স এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা হিসেবে মানবিক ও শিক্ষামূলক কাজে অবদান রেখে যাচ্ছেন।
তিনি দেশের বেসরকারি বৃহত্তম বৃত্তি সংসদ শহীদ হালিম -লিয়াকত স্মৃতি বৃত্তি সংসদ এর পরিচালকের দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে ভাইস-চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন। এছাড়াও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও তাঁর রয়েছে আলাদা পরিচিতি, তিনি হিজরী নববর্ষ উদযাপন পরিষদ এর নির্বাহী সমস্য, বেতাগী রহমানির সাংস্কৃতিক ফোরামের অর্থ-সচিব, আল-ক্বাব ইসলামী সাংস্কৃতিক ফোরামের প্রচার-সচিব, দপ্তর সচিব ও অর্থ সচিবের দায়িত্ব পালন করেন এবং মইনীয়া ইসলামী সাংস্কৃতিক ফোরামের দপ্তর-সচিব, মহা-সচিব ও চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিশাল ভুমিকা রাখেন। তিনি বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান মতিঝিলে বসবাস করেন।

 

Leave a Reply